চাল নিয়ে চালবাজির কারণ কী?
বাদল মুনশী

প্রথম পর্ব //
আগ্রাহণ মাসে ধান উঠলেও চালের দাম না কমে আরও বেড়ে গেছে চাল ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে।এমন অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সরকার বেসরকারিভাবে আমদানিকারকদের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানি করার অনুমতি দিয়েছে।
তারপরও বাংলাদেশে চাল আমদানিকারকদের গড়িমসি এবং সরকারের কিছু নিয়মের জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাল আমদানির টার্গেট পূরণ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বেসরকারি চাল আমদানিকারকরা হাজার হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি নেয়ার পরও প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, বোরা ধান না আসা পর্যন্ত অর্থাৎ এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টন চাল আমদানি করা গেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, চাল আমদানির টার্গেট পূরণ না হলে এপ্রিল মাস পর্যন্ত চালের ঘাটতি থাকতে পারে।
তবে আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, এখন সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকদেরও ভারতের চালের বাজারের ওপর নির্ভর করার কারণে সেখানে দাম বেড়ে গেছে।
এছাড়া বিশ দিনের মধ্যে চাল আমদানি করে তা বাজারজাত করার বাংলাদেশ সরকারের সময়সীমা নিয়েও তারা আপত্তি তুলেছেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, হিলি স্থলবন্দর সহ বিভিন্ন বন্দর দিয়ে আপেক্ষায় থাকা চাল দেশে প্রবেশ করলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সরকার বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির টার্গেট নিয়েছে। আমদানিকারকরাও হাজার হাজার টন চাল আমদানির সরকারি অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু অনুমতি নিলেও বেশিরভাগ আমদানিকারকই ঋণপত্র বা এলসি খোলাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো এখনও শুরু করেননি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শীর্ষ পর্যায়ের  আমদানিকারকরা চাল আমদানির অনুমতি পেলেও  আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেননি। কারণ আমদানির সময়সীমা এবং সরকারের কিছু নিয়ম বলে অভিযোগ করেছে।ন।
বলা হয়েছে, সাত দিনে মধ্যে এলসি খুলতে হবে। আর চাল আনার পর ২০দিনের মধ্যে বাজারজাত করতে হবে। এই অল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আসাটা আসলে কঠিন বলে ব্যসায়ীরা মনে করেন।
এছাড়াও শুধু সিদ্ধ চাল এবং ব্রোকন চালের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই চাল বেশি দামে এনে লাভ হবে না বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ আতপ চাল খেলেও তা আমদানির অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এসব বিভিন্ন সমস্যার কারণে সরকার যে পরিমাণ চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে, সে পরিমাণে কিন্তু আমদানি হচ্ছে না।
বেসরকারিভাবে আমদানির টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে কিনা-তা নিয়ে আমদানিকারকরাই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তবে আমদানিকারকদের পাশাপাশি সরকার টেণ্ডারের মাধ্যমে আড়াই লাখ টন চাল আনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেই প্রক্রিয়াও এখনও চলছে।
চারশ'র বেশি আমদানিকারকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। টেণ্ডারের মাধ্যমে যারা চাল দিচ্ছে তাদের পাশাপাশি অনেক আমদানিকারকের চাল হিলি স্থল বন্দরের কাছে সীমান্তে এসে আছে বলে সরকারী সূত্রে জানা গেছে।
স্থল বন্দরে অপেক্ষমান চাল বাংলাদেশে ঢুকলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার মনে করছে।
সরকারী ভাষ্যমতে গত বছর বন্যার কারণে আমন ফলন কম হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের মানুষের একটা বড় অংশকে সরকারের মজুত থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমন মৌসুমের পর চাল মিল মালিকরা সরকারের কাছে চাল বিক্রি করেনি। এসব কারণে চাল আমদানি করতে হচ্ছে বলে বলা হচ্ছে।
 

সর্বশেষ সংবাদ

অন্তরালের খবর এর আরো খবর