জলবায়ু পরিবর্তনের অন্তরালের কারণ
শ্যাম ঠাকুর

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে ভূমির ব্যবহার নিবিড় যোগাযোগ আছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সংস্থা৷
তাদের মতে খাদ্য ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনাটা গোটা বিশ্বের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।
জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকারি প্যানেলের (আইপিসিসি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে৷ 
গোটা বিশ্বের জনবসতি বাড়ছে৷ এর সাথে বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা৷ সময়ের সঙ্গে  সঙ্গে এই চাহিদা আরো বাড়বে তা বলাই বাহুল্য৷ তবে পৃথিবীর সম্পদের পরিমাণ সীমিত, ভূমির পরিমাণ সীমিত৷ তাই সম্পদের অপব্যবহার রোধ এবং বনভূমি উজাড় করা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।
৫২টি দেশের ১০৩জন বিশেষজ্ঞ গত দুই বছর ধরে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন৷
প্রতিবেদনে সুন্দর আগামীর ছবি নয় বরং তাঁরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন যদি প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়ায় আবাদি জমি মরুভূমিতে পরিণত হবে৷ ভেঙে পড়বে অবকাঠামো৷ খরা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ঝুঁকিতে ফেলবে খাদ্য ব্যবস্থাকে৷
তবে, এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছে না আইপিসিসি৷ বলা হচ্ছে, প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো মেনে চললে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও ভূমির ওপর অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করেও সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব৷
প্রতিবেদনেরর মূলসুর হলো-
১. বিশ্বে ২৩% গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গত হয় ভূমির যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে৷ বাড়ার কারণ আবাদি জমির নামে বনভূমি উজাড় করে ফেলা৷ গবাদি পশু আর ধান খেতের কারণে বাড়ছে মিথেন৷
২. এভাবে ক্ষতিকর উপাদানগুলো নির্গত হতে থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে৷ বৈরি আবহাওয়ায় ভেঙে পড়তে পারে খাদ্য শৃঙ্খল৷ পুষ্টির অভাবে কমে যাবে কৃষিজ পণ্যের ফলন৷
৩. ১.৫ শতাংশ উষ্ণতার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ পানি বঞ্চিত হবে এবং শুরু হবে মরুকরুন৷ আর তা যদি ২ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়, তবে একই সময়ের মধ্যে এই পরিণতি বরণ করবে ২২কোটি মানুষ৷
৪. বিশ্বের সকলে সম্মিলিতভাবে ভূমির  স্থিতিশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে মাটির উর্বরতা আর বনায়ন প্রক্রিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টেনে ধরায় ভূমিকা রাখতে পারবে৷
আইপিসিসি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফসলের উৎপাদন যেমন কমবে৷ ঠিক তেমনি বাড়বে খাদ্যের দাম৷ ২০৫০ সাল নাগাদ খাদ্যশস্যের দাম ২৩% বেড়ে যেতে পারে৷ কার্বন নিঃসরণ এভাবে চলতে থাকলে, পরবর্তী ৬০ বছরে অ্যামেরিকার ভূট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন ৮০ শতাংশ কমে যেতে পারে৷
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তাঁদের এক প্রতিবেদনেও  প্রধান খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পাবে বলে ইঙ্গিত করেছে৷ ভারতের দক্ষিণে ২০৩০ সালের মধ্যে চাল উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে যাবে৷ পরবর্তী তিন দশকে সেটা ১৪ শতাংশে গিয়ে উন্নীত হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে৷
এছাড়াও আবহাওয়াতে আসছে পরবর্তন৷ বৈরি আবহাওয়ার খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও করছে৷ হিসেব বলছে এখনই উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের এক তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷
তবে, সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি৷ ঘুরে দাঁড়াতে এখনই৷ প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বনভূমি উজাড় করা থামাতে হবে৷ নতুন এবং অনাবাদী ভূমিগুলোকে ফসল উপযোগী করতে হবে৷ অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগী হয়ে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা যাবে না।
১২ প্রজাতির উদ্ভিদ আর পাঁচ প্রজাতির পশু থেকে বিশ্ব খাদ্য চাহিদার ৭৫ শতাংশ আসে৷ যখন কেউ খায়, তাঁর মনে রাখা উচিত এটি আকাশ থেকে আসেনি৷ এটি তৈরিরে শ্রম যেমন আছে তেমনি প্রাকৃতিক সম্পদও আছে৷ সচেতনতাই এই সংকট মোকাবিলার অন্যতম উপায় তা বলাল অপেক্ষা রাখেনা।
 

অন্তরালের খবর এর আরো খবর