মোদির বিতর্কিত কৃষি আইনে স্থগিতাদেশ

বিরোধ ও বিক্ষোভের উল্টো স্রোতে হেঁটে মোদি সরকার সম্প্রতি কৃষি খাতে যে তিনটি সংস্কারমূলক আইন পাস করেছে, ভারতের সর্বোচ্চ আদালত গতকাল এসব আইনে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এটি ক্ষুব্ধ কৃষকদের জন্য একটি অর্জন, কিন্তু তার পরও তারা খুশি হতে পারেননি। কারণ সরকার ও কৃষক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য সুপ্রিমকোর্ট যে কমিটি ঘোষণা করেছেন, সেই কমিটিতে কেন্দ্রপন্থি ব্যক্তি থাকায় পক্ষপাতের আশঙ্কা করছেন প্রতিবাদীরা। এনডিটিভি।
 
প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে শুনানিতে বলেন, এ আইন নিয়ে কৃষকদের শঙ্কার জায়গা কোথায় তা জানতে একটি কমিটি গঠন করা হবে। আর এ কমিটির কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
 
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের পার্লামেন্টে তিনটি কৃষি আইন পাস হয়। এসবের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে সুপ্রিমকোর্টে। সেই মামলাগুলো জোটবদ্ধ করে শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। মঙ্গলবার ছিল মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি। শুরুতেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানান, আইন তিনটি নিয়ে আদালত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। একটানা আন্দোলনের জেরে মানুষের জীবনযাত্রা এবং সম্পত্তির ওপরও প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে জীবন ও মৃত্যু জড়িয়ে। যতটা ভালোভাবে সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
 
 
আগের দিন সোমবারের শুনানিতে আদালত সরকারকে আইনটি স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। সর্বোচ্চ আদালত জানান, সরকার তা না করলে সুপ্রিমকোর্ট নিজেই এ পদক্ষেপ নেবেন। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠনেরও তাগিদ দিয়েছেন আদালত।
 
মঙ্গলবার কৃষি আইন কার্যকরে স্থগিতাদেশের পাশাপাশি আইনের পর্যালোচনায় চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষ আদালত। এ কমিটি কৃষি আইন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় ও বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর আদালতে রিপোর্ট জমা দেবে। আর ততদিন নয়া কৃষি আইনে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
 
কিন্তু পাঞ্জাবের কৃষক সংঘ বলেছে, ‘আমরা এই কমিটি মানি না, প্রত্যেক সদস্যই সরকারপন্থি, যারা এই আইনের পক্ষে প্রকাশ্যে সাফাই গেয়ে আসছেন।’ সংঘটি বলছে, তারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ করবে।
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর