করোনাভাইরাস: বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক জরুরি বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস। তবে ভাইরাসটি নিয়ে বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তেদ্রোস বলেন, ভাইরাসটির সংক্রমণ চীনে ভয়াবহ রূপ নিলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে সে তুলনায় খুবই কম ছড়িয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের মাত্র ৪টি ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক এখন পর্যন্ত ভাইরাস প্রতিরোধে চীনের চেষ্টাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে চীন বিশ্ববাসীকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দেবে এবং আক্রান্ত অন্য দেশের পাশে দাঁড়াবে। এদিকে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সারা চীনসহ বিশ্বের ১৬টি দেশে। অন্যান্য দেশে মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চীনেই মারা গেছে ১৭০ জন আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৭১ জনে। এছাড়া প্রায় ৮০ হাজারের মতো মানুষকে রাখা হয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষণে। গত দুই দিনের মধ্যে আক্রান্তের সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যার হারও বাড়ছে হু হু করে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুরো বিশ্বের স্বাস্থ্য বিভাগগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের বরাতে বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, করোনাভাইরাস তিব্বতসহ চীনের সব অঞ্চলেই ছড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা এক দিনেই ১৩২ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭০। নতুন করে দুই হাজারের বেশি মানুষের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর চীনের বাইরে আরও ১৫ দেশে অন্তত ৯১ জনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে চীনের বাইরে এ ভাইরাসে কারও মৃত্যুর তথ্য এখন পর্যন্ত আসেনি। চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো হেলথ কমিশনের বরাতে বলছে গতকাল পর্যন্ত হুবেল প্রদেশে ৮০ জনের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার খবর প্রকাশ করেছে। আগের দিনও একই তথ্য জানিয়েছে কমিশন। চীনের হুবেই প্রদেশের যে শহর থেকে এই ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়েছে, সেই উহান এবং আশপাশের কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে গত কয়েক দিন ধরে। হুবেই প্রদেশের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের বাস চলাচল বন্ধ রাখায় প্রায় ৬ কোটি মানুষ আংশিক বা পুরোপুরি অবরুদ্ধ দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আরও কয়েকটি বড় শহরে পাবলিক বাস, ট্যাক্সি ও রাইড শেয়ারিং সেবা বন্ধ রয়েছে। স্কুল ও দোকানপাটও আপাতত খুলছে না। কিছু জায়গায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যায়নি। বিভিন্ন বিমান পরিবহন সংস্থা চীনের পথে ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ রেখেছে। স্টারবাক, ইকিয়ার মতো কয়েকটি আন্তর্জাতিক চেইন শপ চীনে তাদের সব দোকান বন্ধ রাখছে। বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের চীনে যাতায়াতের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। রাশিয়া, হংকং, ভারতসহ চীন সীমান্তের অনেক দেশই বন্ধ করেছে সীমান্ত। যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদের উহান ও চীন থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে দেশে ফেরানোর পর তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। জাপান দুটো ফ্লাইটে তাদের নাগরিকদের টোকিওতে নিয়ে স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাতে তিনজনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের দুই শতাধিক নাগরিককে। অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে ভারত মহাসাগরে একটি দ্বীপে নিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, চীন থেকে আসা সব যাত্রীকে ১৪ দিন সরকারি ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। ফ্রান্স, কানাডা, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, ভারতও তাদের নাগরিকদের চীন থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। বন্ধ করেছে বিমানের ফ্লাইটও।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর