জাতিসংঘের কার্যক্রম বন্ধে আইন করছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৎপর থাকায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলোর (আইএনজিও) কার্যক্রম বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে মিয়ানমার। এ আইনের আওতায় দেশটিতে জাতিসংঘসহ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের অভিযোগ করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ ছাড়া দেশটির ওপর নানা ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ। এতে বেসরকারি সংস্থাগুলো ইন্ধন যুগিয়েছে বলে মনে করে মিয়ানমার। আর তাই সংস্থাগুলো যাতে রাখাইনে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করতে চাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রস্তাবিত আইনটির খসড়ার একটি কপি পাওয়ার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট।

মিয়ানমারের সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জাতিসংঘ অভিযোগ করে আসছে। তবে মিয়ানমারের সেনারা শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের পাঠানো ভিডিও বিশ্লেষণে রোহিঙ্গাদের নিধন অভিযানের চিত্র ফুটে উঠলে, ১০ রোহিঙ্গা নাগরিকের হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে দেশটির সেনাবাহিনী।

এদিকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো বারবার দেশটিতে ভ্রমণের চেষ্টা করলেও, কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সেখানে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না তারা। এ বছরের জানুয়ারিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর অভিযোগ করে, মিয়ানমারে এখনও ত্রাণ সংস্থা, মিডিয়া ও অন্য স্বাধীনধারার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এদিকে দেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অংসান সু চিকে দেওয়া কয়েকটি পদক কেড়ে নিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা।

আইনের খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের কর্মকর্তারা এসব সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। এসব উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম বন্ধে সরকারের এখতিয়ার সীমিত করারও কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে। সে কারণে কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থা আশঙ্কা করছে, মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে আইনটি ব্যবহার করা হতে পারে।

এদিকে আইনের খসড়াটি কে তৈরি করেছেন সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোন তথ্য পায়নি ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকাটির দাবি, প্রেসিডেন্ট অথবা রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার নির্দেশ মোতাবেক তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে ওই প্রতিবেদন। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হটে জানিয়েছেন, খসড়া আইনের ব্যাপারে ‘পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়’-এর কাছ থেকে জানা যাবে। তবে পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উপমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে উত্তর পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর