‘সন্ত্রাসী হামলার শিকার’ হওয়া লোকজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশ সু চি’র
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

রোহিঙ্গা নয়, সহিংসতা কবলিত রাখাইন রাজ্যে ‘সন্ত্রাসী হামলার শিকার’ হওয়া লোকজনকে পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।

বুধবার দেশটির জাতীয় সমন্বয় ও শান্তি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সু চি রাখাইনের যেসব অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে সেই অঞ্চলগুলোতে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন, মানবিক ত্রাণ ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তাগাদা দিয়েছেন। খবর : সিনহুয়া।

এর আগের দিন বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখাইন পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়। রাখাইন পরিদর্শনের সময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা কার্যালয়ের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে।

রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউ নিয়াই পু সমন্বয় সভায় জানান, সরকার তিনটি ক্ষেত্রে পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে- তালিকা তৈরি, শরণার্থীদের জন্য খাবার সরবরাহ এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি।

সমন্বয় সভায় রাখাইনে সংঘটিত জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি সু চি।

রাখাইন পরিস্থিতিকে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নয়, জাতিগত সংঘাত আখ্যা দিয়ে আসছেন তিনি। রাখাইন পরিস্থিতির নেপথ্যে আরাকান আর্মির সন্ত্রাসকেই বড় করে দেখেছেন তিনি। সু চি তার ১৯ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে ৩০টি পুলিশ চেকপোস্ট আর একটি রেজিমেন্টাল হেড কোয়ার্টারে সন্ত্রাসী হামলার জন্য রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি এবং এর সমর্থকদের দায়ী করে আইনের আওতায় নেওয়ার হুমকি দেন। সেই বক্তব্যের সমালোচনা করেছিল মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বালুতে মুখ গুঁজে আছেন তিনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার বিরুদ্ধে এনেছিল সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন আড়ালের অভিযোগ।

এদিকে, সু’চি এবং মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে ২৪ আগস্ট রাতে নিরাপত্তা চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলাকে রাখাইন সংঘাতের জন্য দায়ী করা হলেও জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের বুধবারের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ২৪ তারিখের আগে থেকেই সেখানে জাতিগত নিধনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইন থেকে সব রোহিঙ্গাকে তাড়িয়ে দিতে এবং তারা যেন আর কখনও রাখাইনে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ কায়দায় সেনা-প্রচারণা ও অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমার।

বিদ্রোহী দমনের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সোয়া পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। যার ৬০ শতাংশই শিশু। এখনও রোহিঙ্গার ঢল নামছে। সোমবার বাংলাদেশে প্রায় এগারো হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রামাণ্য উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তবে বরাবরই মিয়ানমার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, মুসলিম সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ক্লিয়ারেন্স অভিযান পরিচালনা করছে। রোহিঙ্গা মুসলিমরা নিজেদের গ্রামগুলো পুড়াচ্ছে এবং স্থানীয় রাখাইন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর