রাখাইনে ফিরেছে শূন্য রেখায় থাকা এক রোহিঙ্গা পরিবার

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের ওপারে শূন্য রেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের একটি পরিবার রাখাইনে ফিরে গেছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও নিরাপদ নয়— জাতিসংঘের এমন সতর্কতার মধ্যেই শনিবার পাঁচ সদস্যের ওই পরিবার রাখাইনের তংপিওলেতেয়া ক্যাম্পে পৌঁছায় বলে রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিবারাটি মিয়ানমারের ‘প্রত্যাবাসন শিবিরে’ পৌঁছানোর পর সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। তবে রোহিঙ্গা পরিবারটির এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় নয় বলে সমকালকে জানিয়েছেন কক্সাবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন, তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তের শূন্য রেখায় ৭ মাসের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে প্রায় ১৩শ' পরিবারের ৬ হাজার রোহিঙ্গা। তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে অনেক বার বলা হয়েছে। আবুল কালাম বলেন, শূন্য রেখায় যারা অবস্থান করছে তারা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা এবং তারা বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। ফিরে যাওয়া পরিবারটি ওই ১৩শ' পরিবারেরই একটি। মিয়ানমার তাদের লোককে যেকোন সময় ফিরিয়ে নিতে পারে। এখানে বাংলাদেশকে জানানোর কিছু নেই। এদিকে শনিবার মিয়নমার কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবি ও তার সঙ্গে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি ‘মুসলিম’ পরিবার জাতীয় সত্যায়নপত্র গ্রহণ করছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করে না। এই সত্যায়নপত্র এক ধরনের পরিচয়পত্র, যা নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে না। বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা নেতারা এই পরিচয়পত্র প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নিরাপত্তা অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নৃশংসতা শুরু করে। এ অভিযানকে এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র 'জাতিগত নিধনযজ্ঞ' বলে অভিহিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ। ওই অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ছাড়া আগে থেকেই পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে।  রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় ওই সমঝোতা স্মারকের আওতায় এখনও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি।

সর্বশেষ সংবাদ

মানবাধিকার এর আরো খবর