চুক্তি চূড়ান্ত, দুই বছরে ফিরবে রোহিঙ্গারা
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে দেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দু’দেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী রোজ ৩০০ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে ফেরত নেবে মিয়ানমার। মঙ্গলবার দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠকে এই চুক্তি সই হয়।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য সরকারি পর্যায়ের কাজটি সম্পন্ন হলো।

চুক্তি সাক্ষরের পর নেপিদো থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বিবিসিকে বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা সফলভাবে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চূড়ান্ত করে ফেলেছি। সেই সঙ্গে যেসব রোহিঙ্গা ফেরত যাবেন, তাদের জন্য একটি ফরমের রূপও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ওই চুক্তিতে প্রত্যাবাসনের সংখ্যাসহ অন্য যেসব বিষয় আছে, সেগুলোর উল্লেখ আছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ভূমিকার বিষয়টি এখানে যুক্ত করা হয়েছে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জীবন-জীবিকার বিষয় নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রতি সপ্তাহে ১৫ হাজার করে রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। অপরদিকে মিয়ানমারের প্রস্তাব ছিল শনিবার ও রোববার বাদ দিয়ে সপ্তাহে ১৫০০ করে রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া। বৈঠকে দুটি প্রস্তাবের মধ্যবর্তী একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ করে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো হতে পারে।

প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে ওই চুক্তিটির বিষয়ে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপের প্রথম বৈঠকে আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে চুক্তিটি সই হয়।

বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গারা রয়েছেন, তাদের কিভাবে ফেরত আনা হবে, কোন রুট দিয়ে হবে, কোন কোন জায়গায় তাদের রাখা হবে, মিয়ানমারে যাওয়ার পর তাদের কোথায় নেয়া হবে, নিরাপত্তা, বাড়িঘরের কি হবে, কবে শুরু হবে, কবে শেষ হবে এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চুক্তিটিতে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ভূমিকা এবং রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গাদের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করে আসছে। নতুন করে রোহিঙ্গা যোগ হওয়ায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের উপর।

মানবাধিকার এর আরো খবর