প্রধানমন্ত্রী ইতালি যাচ্ছেন কাল, হতে পারে তিন চুক্তি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কন্টির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের সফরে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে রোমের উদ্দেশে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট ইতালির রাজধানী রোমের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। ইতালির স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া ৪ টায় ফ্লাইটটি রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময় বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। গতকাল রোববার পররাষ্ট্র দফতরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইতালির হাতে তিনটি খসড়া চুক্তি রয়েছে। তারা যদি এই সময়ের মধ্যে এগুলো চূড়ান্ত করতে পারে তাহলে এ সফরকালে চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হবে। মোমেন বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক বিনিময়, রাজনৈতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সফরকালে, ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহার জারি করা হবে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ‘যদি সফরের সময় প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করা সম্ভব না হয়, তবে সেগুলো যৌথ বিবৃতিতে প্রতিফলিত হবে এবং পরে চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইতালি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে উভয় দেশের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তির কোন সম্ভাবনা নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ ফেব্রুয়াারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিভিন্ন খাতে আরও বেশি ইতালিয়ান বিনিয়োগের আহ্বান জানবেন। তিনি বলেন, এছাড়াও দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর ব্যাপক পরিম-ল এবং পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই দিন কয়েকটি ইতালীয় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর বাসস্থানের সভাকক্ষে সাক্ষাৎ করবেন। পররষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পর পর তৃতীয় বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর এটি হচ্ছে ইতালিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। মোমেন আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফর বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং চলমান উন্নয়নের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। কারণ এ সফরে বাংলাদেশে ইতালীয় উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগের সন্ধান, ইতালিতে আরও বিভিন্ন পণ্য রফতানি এবং দক্ষ জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্র অনুসন্ধান করার প্রয়াস চালানো হবে। মোমেন বলেন, ইতালি এযাবৎ আমাদের অনেক নাগরিককে সেখানে বসবাসের সুযোগ দিয়েছে এবং আরও অনেকে সেখানে বসবাসের সুযোগ লাভের জন্য অপেক্ষা করছে। তাই এ সফরকালে জনশক্তি রফতানির বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

পররাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এর আরো খবর