বাংলাদেশ-রাশিয়া বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমাদের বিচারব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে বলে বিশ্বাস করি। ’ গতকাল সোমবার রাশিয়া ফেডারেশনের সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা এবং রাশিয়া ফেডারেশনের সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে সেখানকার প্রধান বিচারপতি ভায়াচেসলাভ এম লেভদেভ এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আমন্ত্রণে রাশিয়া ফেডারেশনের প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশে এসেছেন। সমঝোতা স্মারকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার স্বাক্ষর করার কথা ছিল; কিন্তু তিনি ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাস ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে দুই দেশের প্রধান বিচারপতি বকুল ফুলের দুটি চারা রোপণ করেন। এরপর রাশিয়ার প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের এজলাসে বসে বিচারকাজ প্রত্যক্ষ করেন। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের প্রায় এক হাজার ৭০০ বিচারক রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী পাঁচ বছর ধরে চলবে এ প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উভয় দেশের বিচারকরা পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতা ও নতুন জাতি গঠনে তাদের ভূমিকা বাংলাদেশ কখনোই ভুলে যাবে না। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মস্কো সফর করে সে দেশকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ ও ২০১৩ সালে রাশিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুই দফা রাশিয়া সফর করে দুই দেশের সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই বন্ধুত্ব ও সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন চুক্তির তথ্য তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, স্বাধীন, স্বচ্ছ ও কার্যকর আদালত ব্যবস্থাপনাই হচ্ছে সে দেশের আইনের শাসনের জন্য শক্ত ভিত্তি, গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ। বিশ্বের আধুনিক সমাজব্যবস্থায় আদর্শ গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো সাংবিধানিক স্বপ্নসৌধ। আর সন্দেহাতীতভাবেই সবাই আইনের শাসনের অধীন। আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ খুবই শক্তিশালী ও দক্ষ। অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং আইনের শাসন সুরক্ষিত করতে সংগ্রাম করছে। ’ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, থাইল্যান্ডের প্রধান বিচারপতি ভিরাপল থুংসুওয়ান বলেছেন যে একটি আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই দেশের নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন প্রণয়ন বিভাগের ক্ষমতা পৃথককরণের একটি নীতি থাকতে হবে। সেখানে নীতি হবে এমন যে ভারসাম্য রক্ষায় একটি বিভাগ অন্য দুটি বিভাগের ওপর খবরদারি করবে না। অর্থাৎ তিনটি বিভাগের ক্ষমতা ও পৃথককরণ নিরঙ্কুশ নয়। প্রতিটি বিভাগের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকতে হবে। পরস্পরের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা থাকতে হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ও সহযোগিতা থাকবে। তাহলে আমরা আমাদের দেশের কল্যাণের জন্য সবচেয়ে ভালো কৌশল নির্ধারণে বড় পরিবর্তন ও সমাধান বের করতে পারব। এটা হলে ভবিষ্যৎ জীবনের ক্ষেত্রে উন্নতি বয়ে আনবে। ’ তিনি বলেন, ‘এটা বেশি দূরে নয় যে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের বিচার বিভাগ খুবই উন্নত হবে। ’ চুক্তির বিষয়ে আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, এই সহযোগিতা চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্যে হচ্ছে দুই দেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় করা। একই সঙ্গে আদালত ও মামলা ব্যবস্থাপনায় ই-সার্ভিস প্রতিষ্ঠায় রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রাপ্তিও এ চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। আর তা বাস্তবায়িত হলে কম সময়ে, কম খরচে ও কম লোকবল ব্যবহার করে মামলার জট নিরসন করা যাবে। রবিবার তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন রাশিয়া ফেডারেশনের প্রধান বিচারপতি। তিনি গতকাল দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সৌজন্যে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।
 

সর্বশেষ সংবাদ

পররাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এর আরো খবর