নির্বাচন পরিস্থিতি অর্থনীতিতে কোন প্রভাব ফেলবে না: অর্থমন্ত্রী

আগামী জাতীয় নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি যায় হোক না কেন তা অর্থনীতির উপর কোন বিরুপ প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির হবে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

আজ রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে দি ইন্সটিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। সম্মেলনে ইউএন রেসিডেন্ট কোঅপারেশন অ্যান্ড ইউএনডিপি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ মিয়া শিপো, নেদার‌ল্যান্ডের হেড অব সাসটেইনেবল ডিভালপমেন্ট গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) পিয়েতরো বারতেজি, আইসিএমএবি’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষীণ এশিয় বাণিজ্যে ভারত ও চীন এগিয়ে আছে। নানা কারণে বাংলাদেশ ট্রেড ভলিয়ুমে পিছিয়ে আছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলে আমরা সে ট্রেড ভলিয়ুমে এগিয়ে যাব।

সম্মেলনে মোহাম্মদ সেলিম জানান, বর্তমানে অর্থনৈতিক রিপোর্টিং বদলে যাচ্ছে। এখন ধীরে ধীরে ইন্টিগ্রেটেড ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এবং সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা আসছে। এজন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ প্রণীত এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যার ফলে দেশটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যেই অর্জন করতে প্রতিটি দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এসডিজিগুলো হচ্ছে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, সুস্বাস্থ্য, গুণগত শিক্ষা, বৈশ্বিক উষ্ণতা, লিঙ্গ সমতা, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন শক্তি, নগরায়ন, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায় বিচারসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হতে চায়। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশটি তার পলিসি প্রণয়নে পরিবর্তন এনেছে। এ প্রেক্ষাপটে পেশাগত হিসাববিদরা এসডিজিরর লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সরাসরি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

সম্মেলনে বিভিন্ন খাতের (সরকারি, বেসরকারি, বহুজাতিক, শিক্ষা, এনজিও, দাতা সংস্থা, বৈদেশিক দূতাবাসসমূহের প্রায় ৪০০ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অংশগ্রহন করে। সম্মেলনে ৬টি কারিগরি অধিবেশনে দেশি ও বিদেশি প্রায় ৪০ জন বিশেষজ্ঞ ১৮টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে এসব বিষয়ে ওপর আলোচনা হবে বলে জানানো হয়।

অর্থ ও বাণিজ্য এর আরো খবর