আলী যাকেরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি বরেণ্য নাট্য অভিনেতা আলী যাকেরের শারীরিক অবস্থা আগের থেকে অনেকটাই ভালো বলে জানিয়েছেন তার ছেলে অভিনেতা ইরেশ যাকের। দুই-একদিনের মধ্যে তিনি বাসায় ফিলতে পারবেন বলেও জানানো হয়েছে।
 
ইরেশ যাকের বলেন, ‘বাবার হার্ট বিটস কমে গিয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করার পর তার হার্টের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। রবিবার পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। তারপর একটু ভালো বোধ করলেই তাকে বাসায় নেওয়া হবে। বাবার সঙ্গে কথা হচ্ছে। তিনি এখন ভালো বোধ করছেন।’
 
 
গত চার বছর ধরে মারণ ব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন বিশিষ্ট অভিনেতা আলী যাকের। সেই চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত তার থেরাপি চলছিল। ছেলে ইরেশ জানান, করোনাকালে বেশির ভাগ সময় আলী যাকের বাসায় সময় কাটাতেন। এমনকি, বাসায় তিনি হুইল চেয়ারের মাধ্যমে চলাফেরা করেন।
 
বার্ধক্য, হার্টের সমস্যাসহ কিছু শারীরিক জটিলতার কারণে গত ১৭ নভেম্বর আলী যাকেরকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শরীরের ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকেই তিনি অভিনয়ে অনিয়মিত। কাজ করছেন না মঞ্চেও। বলতে গেলে, অভিনয় থেকে নিজেকে তিনি পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছেন।
 
১৯৭২ সালের আরণ্যক নাট্যদলের ‘কবর’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এ জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল আলী যাকেরের। ১৯৭৩ সালে তিনি যোগ দেন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে। এখনও সেই নাট্যদলের সঙ্গেই সম্পৃক্ত রয়েছেন। টিভির পর্দায় ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’, ‘তথাপি’সহ বহু দর্শকপ্রিয় নাটকে তাকে দেখা গেছে।
 
অভিনয়ের বাইরে আলী যাকের নাটক নির্দেশনা ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। এছাড়া তিনি একজন নাট্য সংগঠকও। ‘অচলায়তন’, ‘বাকী ইতিহাস’, ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘তৈল সংকট’, ‘এই নিষিদ্ধ পল্লীতে’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’সহ বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।