আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্ত জানাবেন বৃহস্পতিবার

কোটা সংস্কার নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধান্ত জানাবেন আন্দোলনকারীরা। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর একথা জানান। বুধবারের কর্মসূচির সমাপ্তিও ঘোষণা করে তিনি জানান, আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা রাতে বসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংবাদ সম্মেলন করে সবাইকে সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে বিকেলে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাই থাকছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি মনে করি কোটা ব্যবস্থা থাকলে এরকম আন্দোলন বারবার হবে। কাজেই কোটা থাকারই দরকার নাই। কোটা না থাকলে সংস্কারের প্রশ্নও উঠবে না, আন্দোলনও হবে। আন্দোলনের ঝামেলা মেটানোর জন্য কোটা পদ্ধতিই বাতিল।' এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেন কোটা সংস্কারের সমর্থক শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল ১০টার আগে থেকেই বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সোমবার বৈঠকে ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা। তবে মঙ্গলবার তারা ঘোষণা দেন, সরকারি আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পরদিনই ফের মাঠে নামেন কোটা সংস্কারের সমর্থক শিক্ষার্থীরা। বিভক্ত দুই পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়েই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে সমর্থন দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করেন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোটা সংস্কারের সুর্নিদিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সংসদে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর তারা বুধবারের মতো কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

শিক্ষা এর আরো খবর