আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একটি অংশ সরকারের আশ্বাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে আরেকটি অংশ। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে রামপুরা, বসুন্ধরাসহ বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম এভিনিউ ও প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রামপুরা ব্রিজের কাছে ইস্ট ওয়েস্ট; নতুনবাজার এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস); বসুন্ধরা গেটে এআইইউবি, নর্থসাউথ, ইনডিপেন্ডেন্ট ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সড়কের ওপরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এদিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আহসানউল্লাহি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এর আগে সোমবার রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে আধা ঘণ্টা বিক্ষোভ করেছিল ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার তারা একই সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।

ইউআইটিএস-এর শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে ভাটারা থানার সামনে থেকে বাড্ডা-রামপুরাগামী সড়কে পর্যন্ত। আর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেলা ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেটে অবস্থান নেন। পরে তাদের সঙ্গে ইনডিপেন্ডেন্ট, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ও এআইইউবি'র শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। শিক্ষার্থীদের এসব অবস্থানের কারণে প্রগতি সরণির বসুন্ধরা থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কের দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া নর্থ সাউথের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব ও সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি।

তিনি জানান, কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরুর পর ফেসবুকে ইভেন্ট খোলেন তারা। এরপর মঙ্গলবার তারা আন্দোলনে নামেন। 

সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে রোববার পদযাত্রার কর্মসূচি দিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয় 'বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ'। বেলা আড়াইটার দিকে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অবস্থায় নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা। এরপর রাতে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে এবং রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ আর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

মধ্যরাতের পর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ব্যপারে অবগত আছেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সোমবার বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে ঢাবি ভিসির বাসভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সোমবার বিকেলে তাদের সঙ্গে বসে সরকার। সেখানে কোটা পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাসের ভিত্তিতে এক মাসের জন্য আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। অপর একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

শিক্ষা এর আরো খবর