দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে করোনার সম্মূখ যুদ্ধে অংশগ্রহন করতে হবে

এই এযাবৎ করোনায় বিশ্বে৮৯৩২৯৯১ জন আক্রান্ত ও ৪৬৭০২৯ জন মারা গেছেন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ১,১৫৭৮৬জন এবং মারা গেছেন মোট ১৫০২ জন। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশিই হবে। বাংলাদেশে প্রতিদিন তিন সহস্রাধিক মানুষ এই ভাইনরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গত ৮মার্চ কোবিড-১৯ সনাক্ত হবার পর বাংলাদেশে ২৬ মার্চ থেকে দেশজুড়ে সব সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষাণা করা হলেও ঘরমুখো মানুষের ঢল,মাঝখানে গার্মেন্টস ফ্যাকটরী খোলা ও ঈদের ছুটিতে দোকানপাট খোলার কারণে করোনা ভাইরাত এখন দেশের সবকটি জেলাতে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে বড়েছে। যা জনগণের জীবনের প্রতি বিশেষ হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এই রোগে প্রায় অর্ধশতাধিক মোনুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছে।
এমতাবস্থায় ভাইরাস সংক্রমণের হার কমাতে  না পারলে আমাদের আরও অনেক মাশুল গুণতে হবে। 
এ জন্য মানণীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শমত  জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরীক্ষণ, বিচ্ছিন্ন, সঙ্গনিরোধ ও প্রাদুর্ভাব বেশি এমন অঞ্চলকে অবরুদ্ধ করার মতো পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি আমাদের দেশপ্রেমিক জনগণকে ৭১এর মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে করোনার সম্মূখ যুদ্ধে নামতে হবে।
করোনাভাইরাস যেহেতু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়ায়। বিশেষ করে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের সময় মুখের হাঁচি, কাশি, লালা বা থুতু থেকে সরাসরি ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়।
সেহেতু শুধুমাত্র স্বাস্থকর্মী,পুলিশ,মিলেটারী দিয়ে জনগণকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে বাধ্য করানো সম্ভব হবেনা।
“নিজেও স্বাস্থ্যবিধিধি মানুন অন্যকেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে উৎসাহিত বা বাধ্য করুন” এই চতনায় প্রতিটি মানুষকে এমনভাবে সচেতন করতে হবে,যাতে প্রতিটি মানুষ করোনার স্বাস্থ্যবিধি যেমন মাস্ক ও হ্যান্ড-গ্লোভস ব্যবহার ও শারিরিক দূরত্ব(৩ থেকে ৬ ফুট )বজায় রাখা,হাত ধোয়া, হাঁচি-খাশি শিষ্টাচার মেনে চলা সহ ও সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং তার আশেপাশের মানুষকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেয় বা বাধ্য করে। প্রতিটিা মানুষ যদি একে অপরকে এইভাবে করোনার স্বাস্থ্যবিধি হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে উৎসাহিত করে। তাহলে এই রোগের দ্রুত বিস্তার রোধ করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
 
জনসমাগমস্থলে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে বা ভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে ধরলে কাছাকাছি পৃষ্ঠতলে যেমন টেবিলের তল, দরজার হাতল, বাতির সুইচ, পানির কল, খাটের খুঁটিতে বা সেলফোনে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে। সেখান থেকে  অন্যদের মধ্যে করোনাভাইরাসে  ছড়াতে পারে।
প্রতিটিা দেশপ্রেমিক সকল নাগরিককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে ও মেনে চলতে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই এই রোগের দ্রুত বিস্তার রোধ করা যাবে।
এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সময়  রোগীর নিঃসৃত ভাইরাসের কণাগুলো বাতাসে ভেসে একাধিক মানুষ ও চিকিৎসাকর্মীকে সংক্রমিত করতে পারে।এমন সব ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে না পারলে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।এমন সব রেড জোনে সব মানুষ যাকে পিপিই ব্যবহার করে সে বিষয়েও পারস্পারকি সতর্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আমি এবিষয়ে দেশের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে  এবং বিশেষ করে সরকারী ও বেসরকারী সকল সম্প্রচার ও  গণমাধ্যমের কর্মী ও কর্ণধারদের অনুরোধ করবো, তারা যেন প্রতিটি মানুষকে এইভাবে সচেতন করতে প্রচারণা চালায়,যাতে প্রতিটি মানুষ করোনার হাঁচি-খাশি শিষ্টাচারসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এবং তার আশেপাশের মানুষকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পরামর্শ দেয় বা বাধ্য করে।
প্রতিটিা মানুষ যদি একে অপরকে এইভাবে করোনার স্বাস্থ্যবিধি হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে সম্মূখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে। তাহলে এই রোগের দ্রুত বিস্তার রোধ করা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা আজ এক অদৃশ্য মহাশক্তিধর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। যে প্রাণঘাতি ভাইরাস মানব সমাজের জন্য ভয়ানকভাবে হুমকি।করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এ এক জনযুদ্ধ। তাই এই যুদ্ধে দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে অংশগহণ করতে হবে। তাহলেই আমরা করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে পারবো।
 
 
 

সম্পাদকীয় এর আরো খবর