প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

ভারতে নরেন্দ্র মোদি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারই প্রথম দিল্লি সফর করেছেন। এই সফরে অনেক কারণেই নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকটি ছিল গুরুত্ববহ। ভারত সফরের তৃতীয় দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের সাধারণ মানুষই এই বৈঠক শেষে কী ফল আসে তা দেখার প্রত্যাশায় ছিল। শেষ পর্যন্ত সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বৈঠক। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় দেখা যায়, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং এ ব্যাপারে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন। আর এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই বলেও জানিয়েছেন মোদি। তবে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা নিয়ে আলাদা কোনো সমঝোতা বা চুক্তি এই সফরে স্বাক্ষরিত হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ২০১১ সালের একটি অন্তর্র্বর্তী চুক্তির কাঠামোর কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দিলেও অতীতের অজুহাত দেখিয়ে দায় সেরেছেন নরেন্দ্র মোদি বরং উল্টো এখন ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার সাবরুম শহরে পানীয় হিসেবে সরবরাহে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রফতানি করবে বলে চুক্তি করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফরের দুটি দিক রয়েছে।

প্রথমত, তিনি সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। তার এ বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিল। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি ও বৈষম্য কমানোর বিষয়টি সামনে এনেছেন। একই সঙ্গে বহুত্ববাদের কথা বলেছেন। তার উচ্চারণ সময়ের বিবেচনায় সাহসীও। এ ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

দ্বিতীয়ত, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক।

এ বৈঠকে দু’দেশের স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলো স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে, বিশেষ করে জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। এ বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গটি উঠবে না, সেটা আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। এ বৈঠকে সেটা ওঠা বা না ওঠার বিশেষ কোনো গুরুত্বও নেই। কারণ, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একমত এবং এটা কেন ঝুলে আছে, সেটা সবারই জানা।

অতএব, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে সব জটিলতা নিরসন হয়ে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হবে, সে প্রত্যাশা রয়েছে।

সম্পাদকীয় এর আরো খবর