সংবিধানেই দেয়া আছে সহায়ক সরকারের রূপরেখা

সংবিধানের ১১৯ ধারায় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের উপর। সংবিধানের ১১৮ ধারার ৪ উপধারায় সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব¡ পালনে স্বধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধানের অধীন হইবেন। অর্থাৎ নির্বাচন দায়িত্ব¡ পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করবেন না। ইচ্ছা করলেই রাষ্ট্রপতি কিম্বা প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কিম্বা নির্বাচন কমিশনের অন্য কোন সদস্যকে তাদের সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছরের আগে চাকুরী থেকে অপসারণ করতে পারবেন নাÑ শুধুমাত্র অসদাচারণ প্রমাণে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি এবং আপীল বিভাগের সর্ব জৈষ্ঠ বিচারপতি সমš^য়ে গঠিত কাউন্সিলের সুপারিশেই একজন নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে। এর অর্থ হচ্ছে, সম্পূর্ণভাবে ভয়ভীতির ঊর্ধে থেকে নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচন সম্পর্কিত কর্তব্য ও দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। সংবিধানের ১২০ ধারায় এ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট বিধান রয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যে রূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হবে নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। সংবিধানের ১২৬ ধারা মতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষ’র কর্তব্য। সংবিধানের উপরোক্ত ধারাসমূহের আলোকে নিঃসন্দেহে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সংসদ নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্ব পালনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনই সর্বেসর্বা। এবং নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, এ দায়িত্ব পালনে সরকারের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর সহায়তা প্রয়োজন, কমিশনের বিবেচনায় যে সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা এরূপ সহায়তা প্রদানে স¶ম, তাদের নাম ও তালিকা রাষ্ট্রপতি বরাবরে প্রেরণ করলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখিত কর্মচারী-কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে বাধ্য থাকবেন। বলা বাহুল্য, সরকার যার অধীনেই থাকুক না কেন, এ সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা তাদের এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে থাকবেন স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীন, প্রধানমন্ত্রীর অধীন নয়।
তাই স্বাধীন নির্বাচন কমিশনই ‘সহায়ক সরকার’এর ভূমিকা পালন করতে পারে।