দেশবাসী সবাইকে
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা

ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল মাহেরমজানের শেষে পবিত্র ইদ এক মহা আনন্দের বার্ত নিয়ে আসে!
সুদীর্ঘ মাসব্যপী সিয়াম সাধনা শেষে পরম আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়। মুসলমানদের আনন্দময় দিন ঈদ!
‘ঈদ’ এর অর্থ খুশি, আনন্দ-উৎসব। ‘ফিতর’ অর্থ রোজা ভঙ্গ করা। পবিত্র রমজান মাসে রোজা, তারাবিহ নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জাকাত-ফিতরা, দান-সাদকা প্রভৃতি ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার শুকরিয়া ও আনন্দ প্রকাশের জন্যই ঈদুল ফিতর উদ্যাপন। ঈদুল ফিতরে আনন্দঘন উৎসবে মেতে ওঠে গোটা মুসলিম বিশ্ব! যা ইসলামী জীবনবোধের একটি জাতীয় সম্মিলনের দিনও বটে।
ঐতিহাসিক পটভূমিতে দেখা যায় তৎকালে আরব দেশে মুসলমান ছাড়া অন্যান্য গোষ্ঠীভুক্তদের মধ্যে নানারকম বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকত। এসব উৎসব নানান অশ্লীলতা ও রুচিহীন আনুষ্ঠানিকতায় ভরা থাকতো। অপরদিকে ইসলামের অনুসারী মুসলমানদের জন্য তেমন কোনো উৎসবের প্রচলন ছিল না। তাই মুসলমানদের বিনোদনের বিষয়টি নবী করিম (স) উপলব্ধি করে, তিনি ঈদ উৎসবের সূচনা এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জাতিরই নিজস্ব আনন্দ-উৎসব রয়েছে, আমাদের আনন্দ-উৎসব হচ্ছে এই ঈদ।’
ঈদুল ফিতরের সামাজিক শিক্ষা হচ্ছে— এর যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও মানুষের পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা, আতিথেয়তা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা বোধের মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। ঈদুল ফিতরের দিনে ধনী-নির্ধন সব ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান সমাজের গরিব-দুঃখীদের আনন্দের সম-অংশীদার!
ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের আগে ধনী লোকদের পক্ষ থেকে দরিদ্রদের প্রতি ফিতরা, সাদকা প্রদানে সামাজিক উন্নয়নের সাম্য সৃষ্টির মহান ইসলামী দর্শনের প্রকাশ ঘটে থাকে।
ঈদুল ফিতর মানুষকে শিক্ষা দেয় যে, ইসলামের রীতি-নীতি অনুযায়ী ধর্মীয় বিধিবিধান ও দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালনের মধ্যেই প্রকৃত শান্তি নিহিত রয়েছে।
ঈদের দিনটি ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ  সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়। এদিক থেকে কেবল ঈদ আনন্দের বার্তাইবয়ে নিয়ে আসে না, ইসলামের সাম্যের দিকটি তুলে ধরে।
পরম সম্প্রীতি ও সহমর্মিতায় সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ-ঈল- ফিতর পালিত হোক এই হোক আজকের প্রত্যাশা!
সবাইকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা!