পাহাড় ধস
কার্যকরি পদক্ষেপের প্রত্যাশা

বাংলাদেশে পাহাড় ধসের কারণে নানা সময়ে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হওয়ার সংখ্যাও কম নয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে ১৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামের সাত স্থানে মাটিচাপায় ১২৭ জন, ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে চার পরিবারের ১২ জন, ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগার পাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৭ জন, ২০১২ সালে ২৬-২৭ জুন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে ৯৪ জন এবং ২০১৫ সালের ২৬-২৭ জুন টানা বর্ষণের ধসে ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ১৯ জন মারা যায়।
পাহাড় ধসের পেছনে প্রাকৃতিক কারণ এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। প্রাকৃতিক কারণ হলো— পাহাড়ের ঢাল যদি এমন হয় যে ঢালের কোনো অংশে বেশি গর্ত থাকে। তখন অতিবৃষ্টিতে ভূমি ধস হতে পারে। এ ছাড়া ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পাহাড়ের পাদদেশের নদী ও সাগরের ঢেউ থেকেও পাহাড় ধস হতে পারে।
আর মনুষ্য সৃষ্ট কারণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়েছে, পাহাড়ের গাছ পালা কেটে ফেলা, মাটি কেটে ফেলা, পাহাড়ে প্রাকৃতিক খাল বা ঝর্ণার গতি পরিবর্তন, পাহাড়ের ঢালুতে অতিরিক্ত ভার দেওয়া এবং খনি খননের কারণে পাহাড় ধস হতে পারে। তবে আমাদের ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, বাংলাদেশে মূলত পাহাড়ের উপরের দিকে কঠিন শিলার অভাব, পাহাড়ের মাটি কেটে ফেলা এবং বড় গাছপালা কেটে ফেলার কারণেই পাহাড় ধস হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের পাহাড়গুলোতে কোন কঠিন শিলা নেই। তাই বৃষ্টির কারণে এ ধরনের মাটি পানি শুষে ফুলতে থাকে। তাছাড়া কঠিন শিলা না থাকায় মাটিগুলো নরম ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে ভারি বর্ষণের সাথে সাথে মাটি ভেঙ্গে পড়ে। তাছাড়া যারা পাহাড়ে থাকেন তারা ঘর নির্মাণের জন্য পাহাড়ের সবচেয়ে শক্ত মাটির স্তরও কেটে ফেলেন। এতে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা আরও তীব্র হয়। পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিক না হলে আমাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে সে দায় শোধ করতে হবে। কমিটির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেআইনিভাবে পাহাড় কাটা রোধ ও পাহাড়ে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা। পাহাড়-কাটা বন্ধ করা এবং বিপজ্জনক পাহাড়-কাটা অংশে বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ করা হলেও এই সমস্ত অবৈধ কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা বারে বারে এমন মর্মন্তুদ ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। আমরা চাই, কঠোরভাবে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং আইন-কানুন উপেক্ষার বিরুদ্ধে, প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

সর্বশেষ সংবাদ