ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট

উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশের এগিয়ে চলাকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ৪৬তম বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এটি বর্তমান সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম বাজেট। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর এটি ১১তম বাজেট উপস্থাপন এবং টানা নবম উপস্থাপন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এই বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটকে ‘বেস্ট বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বস্তুত ঘোষিত বাজেটকে এক ধরনের ‘মিশ্রণ’ হিসেবে অভিহিত করা চলে- যেখানে কিছু উচ্চাভিলাষ আছে, আছে সাহসী পদক্ষেপ, আবার একই সঙ্গে রয়েছে উদাসীনতাও। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে রাজস্ব আদায়, অর্থ ব্যয় ও ঘাটতি অর্থায়ন- এ তিনটি বিষয় জড়িত। এবার রাজস্ব আদায়ে সাড়ে ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এ কথা ঠিক, চলতি অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কিছুটা বাড়বে; তবে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলেই মনে হয়।
এবারের বাজেটে বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। বলা চলে, এবারের বাজেট দেশের শিল্পোদ্যোক্তাসহ সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীকে হতাশ করেছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা তাদের বিশ্লেষণেও এ হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন শিল্প যেমন গড়ে উঠবে না, তেমনি চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রসারিত হবে না। এর ফলে কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়। বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটাতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
বাজেট যেমন একটি সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব, তেমনি এটি রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কৌশলপত্রও। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বড় বাজেট ঘোষণাই সব কিছু নয়। বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বড় ধরনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বড় বাজেট জাতির আশা পূরণে সফল হবে না। আমরা আশা করি, জাতীয় সংসদে পাস করা বাজেটটি জাতির লক্ষ্য পূরণে অনেক বেশি সফল হবে।

সর্বশেষ সংবাদ