সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ সম্ভব

অপ্রিয় হলেও সত্য, যে মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির অভ্যুদয়, তার অনেকটাই বর্তমানে বিস্মৃতপ্রায়। ত্রিশ লাখ শহীদান, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ অর্জিত হলেও অচিরেই তা হোঁচট খায় পাকিস্তানপন্থী বাংলাদেশবিরোধী কুচক্রের দ্বারা। স্বাধীনতার প্রায় অব্যবহিত পরেই তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে সপরিবরে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে বাঙালী জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে তথাকথিত ধর্মীয় লেবাস পরিয়ে দেশ শাসন করার অপপ্রয়াস পায়। মাদ্রাসা শিক্ষাসহ কায়েম করে বহুধাবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা। এ থেকে মুক্তি পাওয়া আদৌ সহজ ছিল না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বহু সংগ্রাম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার পর বর্তমানে এক আধুনিক ও অগ্রসরমাণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। তবে আরও অনেক দূর যেতে হবে। ইতোমধ্যে বিছিন্নভাবে হলেও একাধিক জঙ্গী সংগঠন গড়ে উঠেছে। সুস্পষ্ট অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি জঙ্গী সংগঠন আইনত নিষিদ্ধ হলেও অনেকেই নামে-বেনামে অবৈধ কার্যক্রম ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এ অবস্থায় দেশীয় জঙ্গী সংগঠনগুলোর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ থাকাও বিচিত্র নয়। অস্ত্র ও অর্থের যোগান থাকাও স্বাভাবিক। সে অবস্থায় সর্বস্তরে ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তুলে, যা কেবল সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই, জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ সম্ভব। সে অবস্থায় জঙ্গী দমন ও প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে- এটি এখন সময়ের দাবি।
দেশব্যাপী সমাজের প্রতিটি শ্রেণী পেশার মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জঙ্গীবাদের বিষবাষ্প প্রতিরোধে ঘরে ঘরে গড়ে তুলতে হবে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এর পাশাপাশি জঙ্গী সন্ত্রাস দমনে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই।

সম্পাদকীয় এর আরো খবর