জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণের ঐতিহাসিক দিন আজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার ঐতিহাসিক দিন আজ। ১৯৭৪ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এর আগে একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য দেশের মর্যাদা লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশ। এর মাত্র সাত দিন পর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু এ ভাষণ দেন। জাতিসংঘে এটিই ছিল প্রথম বাংলায় ভাষণ। এই বাংলা ভাষণ ছিল সমগ্র বিশে^র অধিকারবঞ্চিত নির্যাতিত-নিষ্পেষিত মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তি, ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার বলিষ্ঠ উচ্চারণ ও সাহসী পদক্ষেপ।
 
বঙ্গবন্ধুকে প্রথমেই অনুরোধ করা হয়েছিল, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ইংরেজিতে বক্তৃতা করবেন।’ কিন্তু প্রিয় মাতৃভাষা বাংলার প্রতি সুগভীর দরদ ও মমত্ববোধ থেকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা  করতে চাই।’
 
এ দিনটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাভাষী ও বাংলা সাহিত্যপ্রিয় অন্যান্য জনগোষ্ঠীর কাছে দিনটি অত্যন্ত গর্বের ও অহংকারের। বাংলাভাষার উৎকর্ষ সারা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার জন্য বাংলা সাহিত্যের সপ্তরথের কা-ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, সেই পরম্পরাকে জনমতের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণতা  লাভ করে।
 
প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও জাতির পিতার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দিচ্ছেন। এবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (৭৫তম ) অধিবেশনে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণে বাংলায় ভাষণ দেবেন।
 
এ দিবসটি বিশেষভাবে পালনের মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ (বাংলাদেশ) এবং ‘আমরা মনভাসি’ (পশ্চিমবঙ্গ) যৌথ উদ্যোগে এপার বাংলা  এবং ওপার বাংলার  প্রখ্যাত গবেষক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি অনলাইন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টার এই ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করবেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। আলোচকদের মধ্যে থাকবেন কলকাতায় বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সভাপতি অজয় দে, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুস সামাদ গায়েন, সাংবাদিক ও লেখক শুভরঞ্জন দাসগুপ্ত, প্রেসিডেন্সি বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মননকুমার মন্ডল, ইন্দো-বাংলাদেশ ফোরাম ফর সেক্যুলার হিউম্যানিজমের সংস্কৃতি সম্পাদক সংগীতশিল্পী শিউলি ভট্টাচার্য এবং বাংলাদেশ থেকে থাকবেন ১৯৭১: গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল ও যুগ্ম সম্পাদক ডা. নুজহাত চৌধুরী।

সর্বশেষ সংবাদ