নাগাসাকি ধ্বংসযজ্ঞের ৭৫ বছর

হিরোশিমায় মানব ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মাত্র তিন দিনের মধ্যে জাপানের অপর শহর নাগাসাকিতে এমন আরও একটি বোমা ফাটায় যুক্তরাষ্ট্র। ‘ফ্যাট ম্যান’ নামক বোমাটির আঘাতে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় জাপানের কিউসু এলাকার বন্দর নগরীটি। সেই ধ্বংসযজ্ঞের ৭৫ বছর আজ, ৯ আগস্ট।

নানা আয়োজনের মধ্যে ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক দিনটি স্মরণ করছে জাপানবাসী। নাগাসাকি দিবস উপলক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়কে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন নাগাসাকির মেয়র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণের সাক্ষী হয়। ‘লিটল বয়’ নামক ওই বোমা বিস্ফোরণে নগরীটিতে প্রাণ হারায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ।

এই ধ্বংসযজ্ঞে জাপান যখন দিশেহারা, তখনই ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে আরও একটি পারমাণবিক বোমা ফাটায় যুক্তরাষ্ট্র। তাতে মৃত্যু হয় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের। এক পলকেই মাটিতে মিশে যায় নাগাসাকির অধিকাংশ এলাকা।

 

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণে আহত অবস্থায় যারা বেঁচে ছিলেন তাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে ক্যানসারসহ অনেক দুরারোগ্য রোগে ভুগেছেন। বোমার তেজস্ক্রিয়তার বিকলাঙ্গ হন অনেকে।

নাগাসাকিতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ছয় দিন পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রতিপক্ষ শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে জাপান। আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ যুদ্ধ।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব থেকে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মুল করার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগাসাকির মেয়র তোমিমিসা তাউই। সেই সঙ্গে জাপান সরকারকে পারমাণবিক অস্ত্র বিরোধী চুক্তিতে সই করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

“করোনাভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ার আগে মানুষ যেমন এটাকে ভয় পায়নি, ঠিক তেমনি পারমাণবিক অস্ত্র আবার ব্যবহারের পরই আমরা সচেতন হব। আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, যা থেকে কেউ সরে আসছে না।”

করোসাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে হিরোশিমা দিবসের মতো এবার নাগাসাকি দিবসেও তেমন জনসমাগম ছিল না। অল্পসংখ্যক অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

সর্বশেষ সংবাদ