৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়ে থাকে এই ছয় দফাকে। ১৯৬৬ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন। ছয় দফার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনে পরিণত হয়। একটি স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের পথ রচনা করে এই দফা। ছয় দফা দাবি উপস্থাপনের পর এর পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে শফিক, শামসুল হক, মনু মিয়াসহ ১০ বাঙালি নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ছয় দফা আন্দোলন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে মুক্ত হয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের হাত থেকে রেহাই পায়নি। পশ্চিম পাকিস্তান দীর্ঘ ২৪ বছর পূর্ব পাকিস্তানকে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে শাসন করে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন, ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে প্রাদেশিক শাসনের কথা উল্লেখ থাকলেও শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর ঔপনিবেশিক শাসন চালাতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানিদের হস্তক্ষেপ, আধিপত্যের কারণে এ দেশের বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পর থেকেই পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক বৈষম্য। পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তানের শাসক-শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেয় বাঙালি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য ছিল, পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র এবং ছয় দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। ছয় দফা কর্মসূচির ভিত্তি ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। পরবর্তী সময়ে এই ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতির স্বাধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মর্যাদা পায় ছয় দফা। ব্রিটিশ গণতন্ত্রের ইতিহাসে যেমন ম্যাগনাকার্টা, বাংলাদেশের ইতিহাসেও ছয় দফা তেমনি উজ্জ্বল হয়ে আছে। ছয় দফা দিবসে দিনের কর্মসূচি ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকাল ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শেখ হাসিনা প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Deprecated: mysql_connect(): The mysql extension is deprecated and will be removed in the future: use mysqli or PDO instead in /home/banglade/public_html/condb.inc.php on line 4