খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকাকে অপমান করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন। এই মামলায় হাজির হওয়ার জন্য বারবার সমন দেওয়ার পরও খালেদা জিয়া হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সকালেই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর নবীর আদালতে উপস্থাপন করা হলে বাদীর উপস্থিতিতে আদালত পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।   এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুর নবী আদেশে বলেছিলেন, '৫ অক্টোবর আত্মসমর্পণ না করলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। ' কিন্তু ৫ অক্টোবরও হাজির না হওয়ায় আদালত আজ দিন ধার্য করেন।
আদালত আদেশে বলেন, 'বার বার সমন দেওয়া সত্ত্বেও আসামি আদালতে হাজির হননি। সর্বশেষ বারের মতো সময় দেওয়া হলেও তিনি আদালতে আসেননি। এমনকি আদালতকে তার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো। '  ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। মামলায় জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করা হয়। মামলাটি গ্রহণ করে আদালত তেজগাঁও থানাকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ২২ মার্চে এই মামলায় খালেদা জিয়াকে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত। এরপর কয়েকটি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হলেও খালেদা জিয়া হাজির হননি। অবশ্য বর্তমানে তিনি লন্ডনে চিকিৎসার জন্য রয়েছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। এ ছাড়া জিয়া ও বেগম জিয়া দুজনই যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করেন। বেগম জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসে রাজাকারদেও মন্ত্রিত্ব দেন। তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর সুযোগ দিয়ে জাতীয় পতাকাকে অপমানিত করা হয়। সেই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতাকে অপমানিত করা হয়। উল্লেখ্য, যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গত সোমবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধে বিভিন্ন নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর অভিযোগে এক ডজনেরও বেশি মামলা হয়। এর মধ্যে ঢাকার দারুস সালাম ও শাহ আলী থানায় নাশকতার অভিযোগ ১০টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। এসব মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে আছেন। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী, খুলনা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামেও হত্যা মামলা রয়েছে।

আইন আদালত এর আরো খবর