রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চির নিদ্রায় জয়নুল হক সিকদার

বিশিষ্ট শিল্পপতি সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ যোহর সিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নামাযে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শরীয়তপুরের মধুপুর গ্রামে মা-বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হয় এই শিল্প উদ্যোক্তাকে।
 
এর আগে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।
 
রায়েরবাজার সিকদার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদারের প্রথম জানাযা। এতে অংশ নেন সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যবসায়ী ও পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষ। শুরুতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার।
 
এরপর, জয়নুল হক সিকদারের অবদানের কথা স্মরণ করে স্মৃতিচারণ করেন পরিবারের সদস্যরা। শরীয়তপুরের মধুপুর গ্রামে মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয় এই শিল্প উদ্যোক্তার।
 
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও সফল শিল্পোদ্যোক্তা জয়নুল হক সিকদার ৯১ বছর বয়সে বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
 
সিকদার গ্রুপের ব্যবসা ছড়িয়ে আছে ব্যাংক ও বীমা, বিদ্যুৎ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, এভিয়েশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো নানা খাতে। এর সহযোগী কোম্পানির মধ্যে রয়েছে পাওয়ার প্যাক পোর্টস, পাওয়ার প্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস, সিকদার
 
রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস। কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট সিকদার গ্রুপের একটি প্রকাশনা।
 
১৯৩০ সালের ১২ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল হক সিকদার। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন। দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময় ধরে দেশের নানা খাতে তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ কাজ করছেন।

সর্বশেষ সংবাদ