গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু কেড়ে নিল ৬ প্রাণ

দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই হাজার হাজার আক্রান্ত্রের খবর যেমন পাওয়া যাচ্ছে তেমনি এ ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। ডেঙ্গু আতংকে দেশের সকল চিকিৎসালয়ে এখন মানুষে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। 

স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও ঢাকার দুই সিটি করর্পোরেশনের ব্যর্থতায় এ বছর ডেঙ্গু মহামারি ধারণ করেছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৬ জন মারা গেছেন। যাদের মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রয়েছেন পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার স্ত্রীও। 

ডেঙ্গু জ্বর হলে যমে ও মানুষে টানাটানির পর যারা বেঁচে ফিরেন তারা যেন যমদূতের সাক্ষাৎ সেই বীভৎস রূপ আর দেখতে চান না। 

এক জাতীয় দৈনিকের হিসাব মতে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৫। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ হিসাব তৈরী করে বলে জানায় তারা। 

জানা যায়, রোববার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাবুদ্দীন কোরেসীর স্ত্রী সৈয়দা আক্তার (৫৪)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। বাকি ৪ জনের মধ্যে দুই জন ঢাকায় ও দুই জন ঢাকার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭০ জন।

পুলিশের এআইজি (গণমাধ্যম) সোহেল রানা জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জুলাই রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি হন সৈয়দা আক্তার। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়েছিল। 

এর আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে কোহিনুর আক্তার নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে পুলিশ সদস্যসহ তাদের পরিবারের ১৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অর্ধেক পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে ঢাকায় ১৪৮ জন এবং ঢাকার বাইরে দুজন।

রোববার বিকালে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়। বিকাল সোয়া ৩টার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান দোহারের একটি কলেজের স্নাতকের ছাত্রী দিপালী। ঘণ্টাখানেক পরে রাজধানীর জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে মারা যান ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী শান্তা। দিপালীর গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায়। ইডেন কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শান্তা পরিবারের সাথে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় থাকতেন বলে তার শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান। 

অন্যদিকে শান্তার বাবা ও ভাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানা যায়। শান্তার বাড়ি গাজীপুরে।
রাজধানী ঢাকায় বাইরে খুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে স্কুল ছাত্রসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ভোরে মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অন্যদিকে রোববার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্জিনা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। খুলনা সিভিল সার্জন মো. আতিয়ার রহমান শেখ এ দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, স্কুলশিক্ষার্থী মঞ্জুর খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সে কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিল। সাধারণ জ্বর ভেবে প্রথম দিকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হলেও শনিবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠাতে পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে ফেরত দেয়া হয়। পরে তাকে নেওয়া হয় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সেখানে ভর্তি করে কয়েক ব্যাগ রক্তও দেয়া হয়। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে রোববার ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে সে মারা যায়। মঞ্জুর সদর উপজেলার তিলক স্বল্পবাহিরদিয়া ইউনিয়নের উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল শেখ ওরফে বাবুর ছেলে এবং রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি কলেজিয়েট স্কুলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

খুলনার মর্জিনা বেগম দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ বলেন, ‘মর্জিনা সপ্তাহ খানেক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রোববার গভীর রাতে মারা যান তিনি।’

সর্বশেষ সংবাদ

জন্ম ও মৃত্যু এর আরো খবর