শুধু ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ২৬ জনের

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শরীরে আগুন না লাগলেও ধোঁয়ায় আটকে দম বন্ধ হয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। গলির মধ্যে আটকে যাবার পর তাদের এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচতলার একটা গলি থেকে ওই ২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। একজনের দেহ আরেকজনের ওপর পড়ে ছিল। কেউ ছিলেন চিত হয়ে, কেউবা উপুড় হয়ে। রাত একটার পর এতগুলো লাশ একসঙ্গে দেখেন লালবাগ ফায়ার স্টেশনের লিডার সাইদুল করিম। ভোর রাতে তাদের মৃতদেহ উদ্ধঅর করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সাইদুল করিম শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমকে বলেন, চকবাজারের চুড়িহাট্টায় এসে দেখি, বিশাল আগুন। আমরা কাজ করতে থাকি। এ আগুন ছিল ভয়ংকর। কাজ করার পর আমরা দেখি মানুষের মৃতদেহ। কাজ করার একপর্যায়ে ওয়াহেদ ম্যানশনে গিয়ে একসঙ্গে পাই ২৬ লাশ। একজন আরেকজনের ওপরে শুয়ে আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। আগুন যখন নিয়ন্ত্রণে আসে, গভীর রাতে লাশগুলো প্যাকেটে স্থানান্তর করি।’ ওয়াহেদ ম্যানশনের ২৬ লাশ পাওয়ার বিষয়ে সাইদুল করিম বলেন, ‘আশপাশে ছিল ওষুধ ফার্মেসির দোকান, ছিল ফ্লেক্সিলোডের দোকান। আগুন লাগার পর যে যার দোকানে ছিলেন। তাঁরা বাঁচার জন্য ওয়াহেদ ম্যানশনের ভেতরে একটা সরু গলি ছিল, সেই গলিতে বাঁচার জন্য গিয়েছিলেন সবাই। যদি পেছন থেকে যাওয়ার কোনো পথ থাকত, তাহলে সবাই বেঁচে যেতেন। কিন্তু সবাই মারা গেছেন ধোঁয়ার জন্য। একটা লোকও কিন্তু পোড়ে নাই। ২৬ লাশের মধ্যে কোনো নারীর লাশ ছিল না। শুধু শিশুর একটা লাশ পাই। বয়স তাঁর পাঁচ বছরের মতন। রাত একটা থেকে দেড়টা সময়, এই লাশের খোঁজ আমরা পাই। লাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। রাত যখন গভীর হয়, তখন লাশ বের করে আনা হয়। লাশগুলো অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

জন্ম ও মৃত্যু এর আরো খবর