পালিত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী মঙ্গলবার, ৩০ মে। এ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২৪টি জায়গায় দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও খাবার বিতরণ করা হবে। শায়রুল কবীর খান আরো জানান, এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া সারা দেশে সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ এবং উৎপাদনমুখী রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান পরিচিতি পেয়েছিলেন অতি অল্প সময়ে। রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। ঢাকায় তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন তাঁর অনুসারীরা। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগেই দেশের মানুষের কাছে জিয়াউর রহমান ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য জিয়াউর রহমান বীর উত্তম খেতাব পান। তাঁকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আনে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লব। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল। এর পরের বছর ১ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বিএনপি। ১৯ দফা কর্মসূচি, বন্ধুরাষ্ট্রের সংখ্যা বাড়ানো, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনশক্তি রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মাধ্যমেই আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি গড়েছিলেন জিয়াউর রহমান—এমনটাই মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, নিজেদের উদ্যোগে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়ার পথ রচনা করে দেখিয়েছেন, বাংলাদেশকে উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া, এগুলো তাঁর বড় বড় অবদান। চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপি বর্তমানে সংসদে নেই। এক দশকের বেশি সময় ধরে রয়েছে ক্ষমতার বাইরেও। তাই দলটির প্রতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণের পরামর্শ এই অধ্যাপকের। জিয়ার অনুসারীরা মনে করেন, তাঁর মৃত্যু নেই। ইতিহাসে তিনি থাকবেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার হিসেবেই।

জন্ম ও মৃত্যু এর আরো খবর