কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি, শিশুসহ মৃত্যু ২০

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলাসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে সাড়ে তিন লাখ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়াও বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে ১৫ শিশু। জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান।
 
এদিকে তিস্তা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় নদী পাড়ে প্রচণ্ড ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ও পানিবন্দী অবস্থায় চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
 
ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারো বাড়ছে। ২৪ জুলাই, শুক্রবার সকালে ধরলা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৮৩ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারীতে ৭৪ ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
এই বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী। এতে ৫০ হাজার বাড়িঘরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এছাড়া ৩৭ কিলোমিটার সড়কপথ ও ৩১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্তায় দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া পানিবন্দী মানুষের নীরব খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
 
চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফা বলেন, ‘আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ পাচ্ছি না। এই মূহুর্তে আমাদের শুকনো খাবার, স্যানিটেশন, পানি ও ওষুধের অনেক প্রয়োজন।’
 
এদিকে তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা, বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার থেতরাই ও বজরা ইউনিয়নের কাসিমবাজারে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিরাম এলাকার ক্রসবারেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে।
 
ওই এলাকার হক্কানী মিয়া জানান, এখানে গত আট দিন ধরে ভাঙন চলছে। মানুষের ঘরবাড়ি ছাড়াও ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
 
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করেছি। দুই লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও দুই লাখ টাকার গো-খাদ্য ছাড়াও পাঁচ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।’

সারাদেশের সংবাদ এর আরো খবর