বাঙালির জীবনে অন্যরকম বর্ষবরণ

বাঙালি জাতির চার হাজার বছরের সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার অনন্য এক উপলক্ষ বাংলা নববর্ষ বরণ উৎসব। সময় প্রবাহে বেড়েছে এ উৎসবের ব্যাপ্তি, পেয়েছে সর্বজনীনতা, আদায় করে নিয়েছে বিশ্বের অন্য সব জাতির সমীহ। পহেলা বৈশাখের সকালে ঢাকা বিশ্ববাদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ উপলক্ষে একমাস আগে থেকেই চলে সাজ সাজ রব। অথচ এবার বাঙালির সার্বিক অর্থেই সর্ববৃহৎ এ উৎসবের আকাশ ঢেকে দিয়েছে আতঙ্ক, উদ্বেগের কালো মেঘ। সামাজিক সম্মিলনের পরিবর্তে জাতি এখন সচেতনভাবেই রক্ষা করছে সামাজিক দূরত্ব। 
 
আজ নেই কোনো শোভাযাত্রা, রমনার বটমূলে নেই ছায়ানটের পরিবেশনা, পার্ক কিংবা টিএসসিতে হবে না প্রাণের মিলন। দেখা মিলবে না ললনাদের পরনে সাদা শাড়ির লাল পার। ঘরে ঘরে পান্তা ইলিশের আয়োজনও কম থাকবে। এমন বৈশাখ এর আগে কোনোদিন দেখেনি বাঙালি। ততে কি ‘উড়ে হোক ক্ষয়/ধূলিসম তৃণসম পুরাতন বৎসরের যত/নিষ্ফল সঞ্চয়।’  রবিঠাকুরের প্রার্থনাকে সম্বল করে আমরা বাঁচার আশা করি। 
 
অকৃত্রিম ভালোবাসায় শুভ কামনা জানাই আজ শুরু হওয়া বাংলা নববর্ষকে। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৭। যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বৈশাখে এবার সবাইকে ঘরবন্দি করে দিয়েছে অজানা, ছুতে না পাওয়া এক ভাইরাস। করোনায় আতঙ্কিত মানুষ বেঁচে আছে, তবে আনন্দে নেই। নেই উৎসবের আলোকচ্ছটা, সবকিছু যেন বিবর্ণ।
 
বৈশাখ আমাদের কাছে আসে নতুন আশা, স্বপ্ন ও প্রত্যয় নিয়ে। সব অশুভ ও অসুন্দরকে দূরে ঠেলে বৈশাখ আসে নতুনের কেতন উড়িয়ে। নতুন বছরে মানুষ করোনার মহামারী থেকে মুক্তি লাভের প্রত্যয় পালন করবে। বৈশাখের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সর্বজনীনতা। পৃথিবীতে প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জীর উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু বাংলা নববর্ষ একান্তই সাংস্কৃতিক ও বৈশ্বিক। এটি ধর্মীয় বলয় থেকে উৎসারিত নয়। পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর শুরু হয় যে বর্ণিলতার মধ্য দিয়ে, এবার তা দেখা যাবে না।
 
প্রতিবছর বৈশাখের কয়েক মাস আগে থেকে মার্কেটগুলো সেজে ওঠে লাল-সাদা রঙে। এবারও তা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যা হওয়ার কথা ছিল, তার কিছুই হয়নি। করোনার কালো থাবা রঙিন বৈশাখকে আজ ধূসর করে দিয়েছে। 
 

সর্বশেষ সংবাদ

শিল্প ও সাহিত্য এর আরো খবর