গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণ দুই শিশু সন্তানকেই কেড়ে নিল

রাজধানীর বংশালে বাসায় গ্যাস লাইন থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হলো।
 
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ওই প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
তিনি জানান, জান্নাতের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। চিকিৎসাধীন শুক্রবার দিবাগত রাতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।
 
জান্নাতের বাবা জাবেদ হোসেন ৩৭ শতাংশ ও মা শিউলি আক্তার ১৭ শতাংশ বার্ন নিয়ে এখনো চিকিৎসাধীন।
 
মৃত শিশুর চাচা মো. তফসির জানান, ঘটনার দিন থেকেই তাকে আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়েছিল। তার অবস্থা সংকাটাপন্ন ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন অবস্থাই আইসিইউতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
 
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে কসাইটুলি ৪৪/১ নম্বর শিমুলের ২তলা বাড়ির নিচ তলায় গ্যাস লাইল লিকেজ থেকে বিস্ফরোণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
 
এতে দেয়াল চাপায় সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায় জান্নাতের ছোট ভাই তিন বছর বয়সের মইনুল। আর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন মা, বাবা ও জান্নাত।
 
স্বজনরা জানায়, তাদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইশিতা লাওয়াশ্বর গ্রামে। জাবেদের বাবার নাম আবদুস সাত্তার। স্ত্রী শিউলি আক্তার (২৫), বড় মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম (৫) ও ছেলে মো. মইনুল ইসলামকে (৩) নিয়ে কসাইটুলি জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের পাশের ওই বাসাটিতে ভাড়া থাকতেন। কসাইটুলিতেই একটি ব্যাগ কারখানা রয়েছে জাবেদের।
 
দগ্ধ অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. সাগর ঘটনার দিন জানিয়েছিলেন, তিনি ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে নয়াবাজারে যাচ্ছিলেন বাজার করতে। তখন ওই বাসার গলির মুখে ১০/১২ জন লোককে ভিড় করে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তিনিও জানার চেষ্টা করছিলেন কী হয়েছে সেখানে।
 
তিনি বলেন, তখনই বাসা থেকে জাবেদ বেড়িয়ে আসছিলেন একাই। তার শরীরে কোনো জামাকাপড় ছিল না এমনকি তার শরীরে চামড়াও খসেখসে পড়ছিলো। এরপরই তার স্ত্রীও একইভাবে বেরিয়ে আসেন। কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছিল না।
 
সাগর বলেন, পরে তাদের দুজনকে একটি রিকশায় তুলে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। এরপর মেয়েটিও বাসা থেকে দগ্ধ অবস্থায় বেরিয়ে আসে। তাকে আমি কোলে নিয়ে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
 
হাসপাতালে এসে বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীন ফকির জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বিকট শব্দে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এতে বাসাটির একপাশের দেয়াল ধসে পড়ে এর নিচে চাপা পড়ে ছেলে শিশুটি মারা যায়।
 
ওসি বলেন, ওখানে গ্যাসের সমস্যা ছিল। বুধবার পর্যন্ত গ্যাসের কাজ চলছিল সেখানে। ধারণা করা হচ্ছে- গ্যাসের লিকেজ থাকার কারণে রুমের ভেভতর গ্যাস জমে ছিল। যার কারণে হয়তো চুলা বা আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

দুর্ঘটনা এর আরো খবর