আগামী বাজেটে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

আগামী অর্থ বছরের বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় এবিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ, মো. ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী, টিপু সুলতান ও মেরিনা রহমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিটি সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সরকার রাজস্ব বাজেট হতে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে ২০০৯-১০ অর্থ বছর থেকে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছর পর্যন্ত তিন হাজার একশো কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭২টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৪০৯টি সরকারী ও ৬৩টি বেসরকারী প্রকল্প রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি ১৩৪টি ও বেসরকারী ৫৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বিভিন্ন কারণে বেসরকারী ৬টি প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবেলায় আগামীতে এধরণের প্রকল্প আরো গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে ট্রাস্ট ফান্ডে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। দূষণকারী কোম্পানীর উপর এক শতাংশ ইকোট্যাক্স সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে পরিবেশ দূষণকারী কোম্পানীর উপর এক শতাংশ ইকোট্যাক্স আরোপ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ইকো ট্যাক্স আরোপ করলে পরিবেশ দূষণ কমবে বলে কমিটি আশা করছে। এছাড়া সংসদীয় কমিটি কর্তৃক সিলেটের হাওড় অঞ্চল, পাথর উত্তোলন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরিদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, দূষণের দায়ে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ট্যাক্স আরোপ হবে তা অর্থ মন্ত্রণায় ঠিক করে দেবে। কমিটি এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পলিথিনের মোড়ক ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান ও দূষণ সৃষ্টিকারী গাড়ির কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট মাইক্রোনের পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করছে। এসব পলিথিন পরিবেশকে দূষিত করছে। কোম্পানীর লভ্যাংশ থেকে ও রোড ট্যাক্স আদায়কালে দূষণকারী গাড়ির ওপর এই ইকো ট্যাক্স আদায় করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।
 

পরিবেশ এর আরো খবর